Posts

উপন্যাস "জালে আটকা জীবন"।

"জালে আটকা জীবন" ফজরের আযান শেষ হতে না হতেই ঢুলতে ঢুলতে বের হলাম পরোটার খামরী আর আলু ঘাটি নিয়ে হটেলের উদ্দেশ্যে । কারন গতকাল বাসায় ফিরতে রাত ১২টা বেজেছিল। আজ স্কুলের মাঠে খেলা আছে তাই সকাল সকাল সব কাজ রেডি করতে হবে। রাত কয়টায় ফিরবো জানিনা। ওহ! আমার পরিচয়টা দিয়ে নেই আমি হলাম সবুজ। আমি এখানে কাজ করছি দ্বিতীয় শ্রেণী হতে এখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পরি। আমি পরাশোনা অত্যন্ত তুখর ছাত্র হওয়ার কারনে পঞ্চম শ্রেণীতে ফেল করছি কি না জানিনা তবে বের করে দিয়েছে সেখান হতে। পরে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেয় দ্বিতীয় শ্রেণীতে। এক বছর পরে আমার চাচা প্রশিকা স্কুলে ভর্তি করে দেয় তৃতীয় শ্রেণিতে সাথে প্রাইমারিতে ও একই ক্লাস এ ভর্তি করে দিয়েছিল। সে সুবাদে দ্বিতীয় শ্রেণী হতে হটেলে কাজ করি। নিয়মিত স্কুলে যাওয়া হয়না। কাজের ফাকে যে দু একদিন যাওয়া পরে। যেদিন ক্লাসে উপস্থিত হই সেদিন পরা না হওয়ার কারনে মার খেতে হত। ক্লাসে একটি মেয়ে আছে যাকে আমি পৃথিবীর দেখা কোন মেয়ের সাথে মিলাতে পারিনা। আমি তাকে পাওয়ার জন্য প্রতি ওয়াক্ত নামাযে আল্লাহর নিকট চেয়ে থাকি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের আগেই হটেলে ঢুকি। হঠাৎ সে দোকানে আসল। কি যেন চাচ্ছি...

আমার_আব্বার_কুরবানী_দেয়ার_সামর্থ্য___ছিলো_না

#আমার_আব্বার_কুরবানী_দেয়ার_সামর্থ্য___ছিলো_না। আমার আব্বা ঈদের নামাজ পড়ে বাড়িতে ফিরে এসে কেঁদেছিলেন। আমার আব্বার কুরবানী দেয়ার সামর্থ্য ছিলো না। আমার আব্বা জমির দলিল জমা রেখে ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ নিয়েছিলেন। আমাদের কিনে নেয়া জমি- অথচ পূর্বপুরুষেরা বিক্রি করলেও জমির ওয়ারিশেরা মামলা করে আমাদের বিরুদ্ধে। একদিন মামলার জবাব দিতে আব্বা জেলা আদালতে আসার পথে পলিথিনের ব্যাগে রাখা দলিল ও কাগজাদী চুরি হয়ে যায়- বাসের ভেতর ঠাসাঠাসি ভীড়ে। কি নিদারুণ ব্যাপার, আব্বার সাথে থাকা আমাদেরই পক্ষের সাক্ষী দলিলের খোঁজ দেন- সাক্ষীর আত্নীয় পেয়েছে সে দলিল। আব্বা তাঁর কাদামাটিতে লেপে মুখবন্ধ গোলার সব ধান বিক্রি করে উদ্ধার করেন দলিলগুলো। একদিন ব্যাংক থেকে উকিলের লাল নোটিশ আসে- ব্যাংক লোন শোধ না করলে পুলিশ কেস। পড়াশোনা শেষে আমি তখন সদ্য ইশকুল মাস্টার। বাড়ির সামনের সড়ক দিয়ে মাইকিং হয়- ঋণ খেলাপীগণ, ঋণ পরিশোধ করুন।  অন্যথায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য থাকবে।... আমার আব্বা আমাকে মোবাইল ফোনে জানান সে খবর- বড় বেশি উদ্বিগ্ন তিনি। আব্বাকে নকিয়া এগারো'শ মডেলের একটা মোবাইল ফোন কিনে দিয়েছিলাম আমি। উদ্বিগ্ন আব্বাক...

দর্শক গ্যালারীতে একসাথে তিন বেকার।

Image
দর্শক গ্যালারীতে একসাথে তিন বেকার। এরা তিনজনে মোট "চব্বিশ বছর" আমেরিকা শাসন করেছিল। কিন্তু এদের কেউ টাকা পয়সা চুরি করে নিজেদের নামে সম্পদ করে নাই। তাই এখন বসে বসে সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেকার ভাতা খায় আর ঘোরাঘুরি করে। এই তিনজন ভিন্ন মত ও দলের মানুষ হলেও একটা জায়গায় সবার নীতি এক ছিল- তা হলো "যেকোন পন্থায় আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করা"...। তাই বহির্বিশ্বে অনেকের চোখে ভিলেন হলেও, স্বজাতির চোখে তারা আজও সমাদৃত। সবচেয়ে বড় কথা, এরা কেউ দেশের সম্পদ চুরি করে বিদেশে পাচার করে নাই। বরং যতটা পেরেছে নিজেদের দেশকে দুর্নীতি মুক্ত ও সমৃদ্ধশালী করার চেষ্টা করেছে।

এইকি আমার ভাগ্য?

আমি তিন ছেলের মা। সন্তান না বলে ছেলে বললাম কেন? ছেলের মা হতে গেলে নাকী ভাগ্য লাগে। আমার প্রথম সন্তান পিয়াস হবার পর ওর দাদি মানে আমার শাশুড়ী মা এমন টাই বলেছিলেন। বড় জায়ের দুই মেয়ে, মেজ জায়ের সন্তান নেই। বিয়ের এক বছরের মাথায় আমি পুত্র সন্তানের মা হলাম। বাড়ীতে হুলুস্থুল পড়ে গেল। আমার শাশুড়ী মা  তার পৌত্রকে পেয়ে যেন জীবনের সবচাইতে মূল্যবান সম্পদ পেলেন। মা হবার আনন্দের চাইতেও উনার আনন্দ  দেখে আমার চোখে জল এল। উনি আমার কান্না দেখে অবাক হয়ে বললেন, ও বৌমা কান্দ ক্যান তুমি খুশী হওনাই? আমি স্মিত হেসে মাথা নাড়লাম বললাম,আপনি কাঁদছেন যে! লজ্জা পেয়ে উনি চোখ মুছে বললেন,আনন্দে কান্দি গো বউ ভাবছিলাম বংশ রক্ষা মনে হয় হইবনা কপালটা বোধয় আমার এমনই। কিন্তু তুুমি আমারে অন্যদের মত নিরাশ করনাই।  এ কথা শুনে আমার বড় জা মুখ মলিন করে ছোট মেয়েটাকে কোলে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল, বিনা অপরাধেই বেচারী কষ্ট পায়। তার কি দোষ কন্যা সন্তান তো আর সে নিজে চেয়ে আনেনাই আর আনলেই বা কি? কি ফুটফুটে পরীর মত দুইটা মেয়ে তার সারাক্ষন বাড়িটা মাথায় করে রাখে। মেজ জা সপ্তাহ খানেক হল বাবার বাড়ী চলে গিয়েছে। কি জানি তাকে আবার কি...

সংসারী ছেলে মা কে ডেকে বলছে......... "মা একটা কথা বলি? আমার একটা অনুরোধ রাখবে?" মা-"তুই চাইলে আমি কি না করতে পারি? বল তোর সব কথা আমি রাখবো।"

Image
সংসারী ছেলে মা কে ডেকে বলছে......... "মা একটা কথা বলি? আমার একটা অনুরোধ রাখবে?" মা-"তুই চাইলে আমি কি না করতে পারি? বল তোর সব কথা আমি রাখবো।" "তোমার বৌমা বলছিলো...তোমার তো বয়স হয়েছে।এখন তো তোমার শরীরের একটু বিশ্রামের প্রয়োজন... আর এই বাড়িটা তো খুব একটা ভালো না। ছোট ঘুপচি....... তোমার কাশিটাও বেড়ে গেছে। আরো তো ডায়বেটিকস আছেই, হার্টের সমস্যা, হাড়ের সমস্যা আরো কতো কি!" মা:"হ্যাঁ রে... মনে হয় আর বেশিদিন...!!!!" " আহ... থামো তো মা। তোমার সবসময় দেখাশোনার জন্য কাউকে রাখতে হবে। আচ্ছা তোমাকে তাহলে গ্রামের বাড়িতে... না না ওই যে বৃদ্ধাশ্রমের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চে ভর্তি করালে কেমন হয়?......এটাই বলছিলো তোমার বৌমা। ওখানে অনেকে থাকবে তোমার মতোই। তাদের সাথে গল্প করতে পারবে আর এ বাড়িতে তো কেউই নাই, আমি ব্যাবসায় দৌড়াচ্ছি, তোমার বৌমা অফিসে আর মিঠু তো সারাদিনই স্কুলে।ওখানে তুমি আরামেই থাকবে মা।....... মা এটাই আমার . . মানে আমাদের অনুরোধ ছিলো।" "আচ্ছা তুই চাইলে তাই হবে"। "থ্যাংকস মা......আচ্ছা কালকে বিকেলেই কিন্তু তাহলে ওখানে যাচ্ছো। তোমার ব্যাগ ...
Image
#এই__বাংলার_আজব_এক_এম_পির__কাহিনীঃ থানায় নতুন ওসি ট্রান্সফার হয়ে এসেছেন। নিয়ম অনুযায়ী সে আসনের এমপি সাহেবের সাথে দেখা করতে ওসি এমপি সাহেবের বাড়িতে গেলেন। ওসি যখন এমপি সাহেবের বাড়ির উঠানে পৌঁছলেন তখন দেখলেন এক মধ্যবয়সী দাড়িওয়ালা লোক একটি গাভীকে ঘাস খাওয়াচ্ছেন!তখন ওসি সাহেব ঐ লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন এমপি সাহেব বাড়িতে আছেন কিনা? তখন ঐ মধ্যবয়সী দাড়িওয়ালা লোকটি ওসি সাহেবের কাছে এসে বললেন তিনিই এই আসনের সংসদ সদস্য। ওসি সাহেব তো রিতিমতো হতবাক! যেখানে ওসির ধারনা ছিল এমপি সাহেব আলিশান বাড়ির খাস কামরায় দলীয় নেতা কর্মী নিয়ে বসে ব্যস্থ সময় পার করবেন। মার্সিডীজ, প্রাডো, দামি ব্রান্ডের গাড়ি নিয়ে সরকারী টাকায় ঘুরে বেড়াবেন। সেখানে এই এমপির সাধারন জীবন যাপন সত্যিই ওসি কে চমকিয়ে দিয়েছেন। জানেন তিনি কে? কোন আসনের এমপি? তিনি সাতক্ষীরা আশাশুনি আসনের দুই বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য #মাওলানা_রিয়াসত_আলী । তিনি শহীদ  প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে সারাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। ওয়ান ইলিভেনের পর আর্মি আতংকে যেখানে রাজনৈতিক রাঘব...

👉👉👉নেলসন ম্যান্ডেলা দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর একদিন তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে বললেন- চলো আজ শহর দেখি। চার দেয়ালের ভিতর বন্দি জীবনের দীর্ঘ সময় কাটানোর পর নিজের শহরটি কেমন হয়েছে। নিজ চোখে না দেখলেই নয়।

Image
দীর্ঘ 27 বছর জেল খাটা নেলসন ম্যান্ডেলা সূর্য কি জিনিস উনি চোখে দেখেনি,  অতঃপর 👉👉👉নেলসন ম্যান্ডেলা দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর  একদিন তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে বললেন-     চলো আজ শহর দেখি। চার দেয়ালের ভিতর বন্দি জীবনের দীর্ঘ সময় কাটানোর পর নিজের শহরটি কেমন হয়েছে। নিজ চোখে না দেখলেই নয়। সহকর্মীদের সাথে নিয়ে নেলসন ম্যান্ডেলা শহরের অলি-গলি হাঁটলেন। খুব ক্ষুধা লাগার পর ম্যান্ডেলা বললেন- সামনের মোড়ে যদি কোনো রেস্তোরাঁ থাকে,  সেখানেই খেয়ে নিতে চাই।ওরা তো অবাক! বুঝতে পেরে ম্যান্ডেলা বললেন, অবাক হওয়ার কিছুই নাই; ক্ষুধা লেগেছে, খাবো। কয়েদখানার  বিভৎস খাবার খেয়েও যেহেতু মরিনি, তাই এতো সহজে মরবো না। সবাই মিলে টেবিলে খেতে বসেছেন। অল্পদূরে আরেকজন ভদ্রলোক বসে আছেন, বেশ বয়ষ্ক। হোটেলের ওয়েটারকে ম্যান্ডেলা বললেন-  একটা চেয়ার এনে আমার পাশে রাখো এবং ওনাকে বলো- আমার টেবিলে বসে খেতে।  ভদ্রলোক আসলেন। এসে আমার পাশের চেয়ারটায় বসলেন।  খেতে খেতে আমরা গল্প করছি। কিন্তু পাশে বসা লোকটি কিছুই খেতে পারছেন না। ওনার হাত কাঁপছে। চামচ থেকে খাবার প্লেটে পড়ে যাচ্ছ...