আত্নহত্যা করছি আমি
আমি আত্নহত্যা করার জন্য উপাই খোজার চেষ্টা করছি।
হ্যাঁ একটা উপায় পেলাম। অতিতে যে নিয়মে ৭০% আত্নহত্যা করছে সেটাই বেছে নিলাম। গলায় দড়ি।
ওহ! বলাইতো হয়নি কেন আত্নহত্যা করছি।
তবে বলছি শুনেনঃ
কারন-০১ঃ
সংসার জ্বালায় আমি অতিষ্ঠ তাই এ জীবন আর রাখবনা। সারাদিন বাহিরে কাজ করে বাসায় ফিরে দেখি থালাবাটির ঝন-ঝনি। থপ থপ করে এসে দরজাটা খুলেই বলা শুরু " আমি কি চাকর এসে গেছি যে সারাদিন খেটে মরব, জীবনটা শেষ হয়ে গেল"।
বাচ্চার বয়স ৪ বছর। বাচ্চা জরে ধরে বলে, "আমার সাইকেল কিনে দিলেননা, আপনি পঁচা " বলে মুখ ভেঞ্চি করে দরজার আরালে লুকে পরল।
আমি আর কি, কাপর সব পাল্টানো শুরু করতেই একটি আওয়াজ পেলাম, "কানের মধ্যে কথা ঢোকেনা, পই পই করে বললাম মরিচ আর লবন নেই এখন খালি ভাত খা"।
রাত্রি ১১.৩০ বেজে গেছে, কাপর না পাল্টে আবার ঘামা গায়ে বের হলাম লবন মরিচের সন্ধানে।
ঈদের সপিং
বউ এর ঝারিঃ
জীবনে সখের কিছুই পেলাম না। অমুকের বউ কি সুন্দর একটা লাল সাড়ি কিনছে। ছেলেটার জন্যও কিছু কেনা হলোনা। অথচ, ৭০০০/= শেষ তখন। বাড়ির জন্য ৩০০০/= টাকা দেব আমার না হলেও চলবে। মোট বোনাস পাইছি প্রায় ১১০০০/=
থাকে ১ হাজার।
হতাশায় নিমজ্জিত আমি।
সর্বসময় তুলনা আর খোটা।
এভাবে জীবন চলতে পারে???
কারন-০২
মনটা খুব খারাপ লাগছিল। বসকে বললাম ১ দিনের ছুটি নিয়ে বাড়ি গেলাম।
মাঁ মনে মনে রেগে আছে কারন ঃঃ
প্রতিবেশী সবাই বলাবলি করে, " তোমার বেটা চাকরি করে বাকরি করে তোর জন্য কি করছে? জীনে খালি কষ্টই করলে"।
আত্বীয়রা গাল ফুলে আছে, ঈদে কিছুই দেইনি।
আমার মতো সন্তানকে মানুষ করাই তাদের ভুল ছিল।
ছোটতেই মেরে ফেলা উচিৎ ছিল মনে হয়।
বাবা মা বলে তাদের জন্য কিছুই করিনি।
মাথা নিচু করে কর্মস্থলে ফিরলাম।
কোম্পানির চাপ, "সেল'স কই? আপনি অপদার্থ, আপনি রিজাইন করেন"। এভাবে হবেনা।
রাতে আর ঘুম হয়না।
পার্টি মাল নিয়ে টাকা দেয়ার নাম নেই। সময়-মতো টাকা ধার কর্জা করে পরিশোধ করলাম।
এখন দেনার দায়,
কি ভাই আপনি ৩/৪দিন পরে দিতে চেয়ে আজ ১৫ দিন হলো, কাল আমার টাকাটা চাই।
বাসা ভাড়া বাকি। ভাই ২ মাস হলো ভারা দেন।
চাল নেই ১/২কেজির মতো আছে।
খরচা নেই।
বাচ্চার খাবার নেই।
তাই জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে।
যাক, গলায় দড়ি দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি আর ফুফিয়ে কাদছি। বউ-বাচ্চা অন্য ঘড়ে।
সব তৈরি হয়ে গেছে।
গলায় ঢুকাচ্ছি।
মুখমন্ডলে দড়ি প্রবেশ করছে কিন্তু গলায় পৌছায়নি।
হঠাৎ মনের গভির হতে কে যেন বলে উঠল, " তুই কাদের জন্য মরতে যাচ্ছিস? তুই মরলে তাদের কি আসে যায়? তুই মরলে তোর কি লাভ? মরার পরে কি শুখে থাকতে পারবি?"
আমি এক ঝটকা দিয়ে নেমে পরলাম, আর সব খুলে বিছানায় শুয়ে ভাবতে লাগলাম।
ঠিকিতো,
আমি কাদের জন্য মরতে যাচ্ছি? যারা তাদের নিজের স্বার্থে আমায় ভেজে খাচ্ছে। না আমি ওদের জন্য মরবো না। স্বার্থপর হবো।
সত্যিতো,
আমি মরলে কয়কদিন পর ওদের সব ঠিক হবে কিন্তু আমার কি লাভ হবে? আমি আত্নহত্যা করলে দোযখ খাটতে হবে অন্ত অসিম সময় যার শেষ নেই।
মরার পরে আমি কষ্ঠে থাকবো।
তাহলে সমাধান টা কি করি -কি করি???????
হ্যাঁ পাইছি একটা সমাধানঃ
আমি যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামায পরি, তাহলে মনে শান্তি লাগবে। সবাই আমাকে সম্মান করবে। বউ সমীহ করবে।
আমার সকল চিন্তা আল্লাহর ভরসায় ছেরে দেব। আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন।
তাই আমি পুর্নাঙ্গ ইসলামের পথে চলা শুরু করায় আমার বর্তমান অবস্থাঃ
১। আমার মনে অসান্তি নেই।
২। বউ নামায পড়ে।
৩। আমার ও বউ এর ধৌর্য অনেক বেরে গেছে।
৪। বাবা মা আর করো কথায় কান দেয়না। আমার উপর সন্তুষ্ট।
৫। বস আমায় স্নেহ করে।
আমি এখন নিজের জন্য বাচার চেষ্টা করছি তাই, সবাই সুখি।
আমি বলি নিজের জন্য বাচুন অন্যের জন্য নয়।
দেখবেন তখন সবাই সুখে থাকবেন।
(((এই গল্পটি কাল্পনিকচরিত্র ও সম্পূর্নরুপে কাল্পনিক। কারো জীবনের সাথে মিলে গেলে আমি দায়ী নই।)))
মোঃ সাজেদুল করিম
Comments
Post a Comment